একটা এনআইডিতে কয়টা সিম: ৫ নাকি ১০? টেলিটকের ঘোষণায় পরিষ্কার হলো সত্য

একটা এনআইডিতে কয়টা সিম

একটা এনআইডিতে কয়টা সিম:  বাংলাদেশে মোবাইল সিম ব্যবহারের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID সরাসরি জড়িত। ফলে  একটা এনআইডিতে কয়টা সিম রাখা যাবে এই প্রশ্নটি নতুন কিছু নয়। তবে ২০২৬ সালকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কিছু তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি করে। অনেকেই ভেবেছিলেন, হঠাৎ করেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে, আর তার প্রভাব পড়বে তাদের দৈনন্দিন যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনে। এই অনিশ্চয়তার মাঝেই টেলিটকের একটি স্পষ্ট ঘোষণা বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে।

২০২৬ সালের তারিখ কেন হঠাৎ আলোচনায় এল

গত কয়েক সপ্তাহে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি নির্দিষ্ট তারিখ বারবার সামনে আসতে থাকে ১ জানুয়ারি ২০২৬। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, ওই দিন থেকেই নাকি একটি NID ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫টি সিম রাখা যাবে। বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর হতে যাচ্ছে।

এই ধরনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ থাকায় অনেকেই বিষয়টিকে গুজব না ভেবে বাস্তব সিদ্ধান্ত হিসেবেই ধরে নেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যাদের নামে আগে থেকেই একাধিক সিম ছিল, তারা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।

এর আগেও সিম সীমা পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা

এই আতঙ্ক হঠাৎ তৈরি হয়নি। কারণ, এর আগেও সিম নিবন্ধনের সীমা কমানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে একটি এনআইডির অধীনে সর্বোচ্চ সিম সংখ্যা ১৫ থেকে কমিয়ে ১০টিতে নামিয়ে আনা হয়। তখন অনেক ব্যবহারকারী অতিরিক্ত সিম বাতিল করেন কিংবা অন্যের নামে মালিকানা স্থানান্তর করে দেন।

আরো পড়ুস: আন-অফিশিয়াল ফোন IMEI দিয়ে চেক করার উপায়: জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কোন ফোন অফিসিয়াল হচ্ছে?

এই সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কারণে দুই মাসের মধ্যেই আবার সীমা কমে যাওয়ার খবর শুনে মানুষ বিষয়টিকে খুব একটা অবাস্তব মনে করেননি।

টেলিটকের ঘোষণায় কী স্পষ্ট করা হয়েছে

এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেয়। সেখানে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কোনো নতুন নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১০টি সিম নিবন্ধন ও ব্যবহার করা যাবে।

একটা এনআইডিতে কয়টা সিম

এই ঘোষণার মাধ্যমে মূলত পরিষ্কার হয়ে যায়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৫টি সিমে নামিয়ে আনার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর নয়।

৫টি সিমের ধারণা এল কোথা থেকে

অনেকেই প্রশ্ন করছেন, যদি সিদ্ধান্ত না থাকে, তাহলে ৫টি সিমের কথা এলো কীভাবে। বাস্তবে বাংলাদেশে সিম নিবন্ধন নীতিমালা নিয়ে বহু বছর ধরেই বিভিন্ন আলোচনা, প্রস্তাব ও পরিকল্পনার কথা শোনা যায়। নিরাপত্তা, জালিয়াতি রোধ এবং অবৈধ সিম ব্যবহারের মতো বিষয় সামনে রেখে বিভিন্ন সময় সীমা কমানোর প্রস্তাব উঠে এসেছে।

এই পুরোনো আলোচনা ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কিছু অংশ যাচাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকেই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি এবং ৫টি সিম এই ধারণার জন্ম।

কেন মানুষ এতটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল

বর্তমান সময়ে মোবাইল নম্বর শুধু কল বা এসএমএসের জন্য ব্যবহৃত হয় না। ব্যাংকিং সেবা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ব্যবসা, অফিসিয়াল যোগাযোগ সবকিছুতেই মোবাইল নম্বর অপরিহার্য।

অনেকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণে একাধিক সিম ব্যবহার করা ছাড়া উপায় নেই। তাই হঠাৎ করে যদি “একটা এনআইডিতে কয়টা সিম” এই সীমা অর্ধেকে নেমে আসে এই আশঙ্কা থেকেই মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করে।

১০টি সিম কি শুধু টেলিটকের জন্য প্রযোজ্য

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, টেলিটক ১০টি সিমের কথা বললেও অন্য অপারেটরের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম থাকতে পারে। বাস্তবে তা নয়। একটি NID-এর বিপরীতে সব মোবাইল অপারেটর মিলিয়েই সর্বোচ্চ ১০টি সিম ব্যবহার করা যায়।

অর্থাৎ টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক সব মিলিয়ে এই সংখ্যা গণনা করা হয়। প্রতিটি অপারেটরে আলাদা করে ১০টি সিম রাখা যাবে এই ধারণা সঠিক নয়।

সরকারি নির্দেশনা কেন এখানে মূল বিষয়

টেলিটকের ঘোষণায় “বাংলাদেশ সরকারের প্রযোজ্য নির্দেশনা” শব্দগুলো বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, সিম নিবন্ধনের সীমা কোনো অপারেটর নিজের ইচ্ছেমতো নির্ধারণ করে না। সরকার ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এসব নিয়ম কার্যকর হয়।

তাই ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন এলে সেটি অবশ্যই সরকারি প্রজ্ঞাপন বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই জানানো হবে।

নিজের নামে কতটি সিম আছে জানা কেন জরুরি

এই গুজবের ঘটনায় আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে অনেক মানুষই জানেন না তাদের নামে কয়টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে। অতীতে নেওয়া কোনো সিম হয়তো আর ব্যবহার করা হয় না, কিন্তু সেটি এখনো সক্রিয় থাকতে পারে।

নিজের নামে নিবন্ধিত সিম জানা থাকলে ভবিষ্যতে কোনো নিয়ম পরিবর্তন হলেও প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়। এজন্য যেকোনো মোবাইল থেকে *16001# ডায়াল করে জাতীয় পরিচয়পত্রের শেষ চারটি সংখ্যা দিলে বিনামূল্যে এই তথ্য জানা যায়।

ভবিষ্যতে কি সীমা সত্যিই কমতে পারে

টেলিটকের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম বহাল থাকবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে সরকার চাইলে এই সীমা পরিবর্তন করতে পারে। তবে সেটি হঠাৎ করে নয়, বরং নির্দিষ্ট সময় ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েই কার্যকর করা হবে।

সবশেষে বলা যায়, একটা এনআইডিতে কয়টা সিম রাখা যাবে এই প্রশ্নের বর্তমান উত্তর এখনো অপরিবর্তিত। বর্তমানে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সর্বোচ্চ ১০টি সিম নিবন্ধন ও ব্যবহার করা যাবে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই সংখ্যা ৫টিতে নামিয়ে আনার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর নয়।

গুজবের সময় আতঙ্কিত না হয়ে অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এতে যেমন অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা কমে, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়।

Disclaimer

We strive to provide accurate information, but we cannot guarantee that all details are always fully updated.

Affiliate Disclosure

This post may contain affiliate links. We may receive a commission if you make a purchase through these links, at no extra cost to you. For more details, please visit our Disclaimer Page.

আইটি বিতান এ আমরা চেষ্টা করি সহজ বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে প্রযুক্তির নতুন খবর ও দরকারি টিউটোরিয়াল তুলে ধরতে, যাতে সবাই সহজে বুঝতে পারে। স্মার্টফোন, অনলাইন ইনকাম কিংবা ডিজিটাল দুনিয়ার খুঁটিনাটি সব তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ,হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে  যুক্ত হোন।